স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী
রাজনীতি
প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ২:৪২ অপরাহ্ন
জনগণের অর্থ বিদেশে পাচার রোধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরে যেভাবে জনগণের অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে, তা আর হতে দেওয়া হবে না। সেই অর্থ দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগানো হবে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, 'আমরা দেখেছি কীভাবে জনগণের অর্থ বিগত এক যুগ ধরে, ১৭ বছর ধরে এই দেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে। জনগণের অর্থ জনগণকে না দিয়ে একটি দল বিদেশে পাচার করে দিয়েছিল। এই জনগণের টাকা আর পাচার হতে দেব না আমরা।'
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির অর্থের উৎস নিয়ে বিভিন্ন মহলের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ও পাচার বন্ধ করতে পারলে এই কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থের কোনো সংকট হবে না। চা শ্রমিকদের গৃহনির্মাণ অনুদান, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও প্রতিবন্ধী মানুষের চিকিৎসা সহায়তার মতো কর্মসূচি আগের কোনো সরকার করেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
চলতি বাজেটকে 'গণবিরোধী' আখ্যা দেওয়ার সমালোচনা করে তারেক রহমান বলেন, যে বাজেটে মায়েদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ এবং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে, সেই বাজেটকে যাঁরা জনবিরোধী বলছেন, তাঁরা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, দেশে যদি অস্থিরতা তৈরি হয়, তাহলে এই সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমগুলো অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে না। তাই যারা দেশে অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিষয়ে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে। তিনি বলেন, 'জনগণ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তাহলে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে পারবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কেউ নষ্ট করতে পারবে না।'
বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যতবারই দেশে নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে, জনগণ ধানের শীষকে বিজয়ী করেছে। কারণ বিএনপি সব সময় জনগণের কাতারে থেকেছে। তিনি খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, সংকটের সময় অনেকে দেশ ছেড়ে গেছেন, কিন্তু খালেদা জিয়া কখনো বাংলাদেশের মানুষকে রেখে কোথাও যাননি।
তারেক রহমান বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের ৪০ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলো আগামী পাঁচ বছরে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে ৫০ জন নারী চা শ্রমিককে গৃহনির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদানের চেক, চা শ্রমিক পরিবারের ১৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান