ইরাকে 'মিলিশিয়ার যুগ' শেষের দাবি, বাস্তবতা কতটা ভিন্ন
বিশ্বজুড়ে
প্রকাশঃ ১৩ জুন, ২০২৬ ২:১৪ অপরাহ্ন
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা একাধিক ব্যক্তিকে জানিয়েছেন, লেবাননে হস্তক্ষেপের কোনো পরিকল্পনা দামেস্কের নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত সপ্তাহে দাবি করেছিলেন, সিরিয়া হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সহায়তা করতে রাজি তার কয়েক দিনের মাথায় এই বার্তা দিলেন আল-শারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সূত্র এএফপিকে জানান, দামেস্ক প্রদেশের কয়েক ডজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গণ্যমান্যদের সামনে শারা বলেছেন, সিরিয়া লেবাননে প্রবেশ করবে এই প্রচারিত কথাগুলো নিছক গুজব।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় জানায়,রাষ্ট্রপতি শারা প্রাসাদে ওই প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যেখানে প্রদেশের উন্নয়ন ও সেবামূলক বিষয়াদি আলোচনা হয়। তবে লেবানন প্রসঙ্গে শারার মন্তব্যের কোনো উল্লেখ সরকারি বিবৃতিতে ছিল না।
এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে আরও নিখুঁত আঘাত হানা দরকার এবং এ ক্ষেত্রে সিরিয়া সাহায্য করতে আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, সিরিয়া দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিচ্ছে, তাদের একজন ভালো নেতা আছেন তিনি অবশ্যই সাহায্য করতে চাইবেন।
এদিকে চলতি মাসের শুরুতে ওয়াশিংটনে লেবানিজ ও ইসরায়েলি দূতদের মধ্যে একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হলেও হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। ওই চুক্তিতে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ বা সেনা প্রত্যাহারের কোনো উল্লেখ নেই।
বৃহস্পতিবার এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নুরুদ্দিন আল-বাবা বলেন, দামেস্ক লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের পাশে থেকে দেশটির নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাম্পের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সিরিয়া ও লেবানন উভয় পক্ষই এই বক্তব্যের সঠিক ব্যাখ্যা দিতে এবং সাধারণ আরব দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে উভয় দেশের স্বার্থরক্ষাকারী সমাধান খুঁজে বের করতে সক্ষম।
আসাদ পরিবারের শাসনামলে সিরিয়া দীর্ঘদিন হিজবুল্লাহর ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিল এবং ১৯৭৫-১৯৯০ সালের গৃহযুদ্ধে সামরিক হস্তক্ষেপের পর ২০০৫ সাল পর্যন্ত লেবানন নিয়ন্ত্রণ করেছিল। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আসাদ সরকারের পক্ষে লড়েছিল। ২০২৪ সালে বাশার আসাদের পতনের পর দামেস্কের নতুন কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহর ঘোর বিরোধী।
ডোনাল্ড ট্রাম্প, সিরিয়া, লেবানন, হিজবুল্লাহ, আহমেদ আল-শারা