সিলেটে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ, সচেতনতা বাড়াতে সিসিকের র্যালি
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ৯ জুন, ২০২৬ ৮:০০ অপরাহ্ন
সিলেট বিভাগে আবারও ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে দুইজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিভাগে মোট ২৩ জনের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলার বাসিন্দারা।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে তিনজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে একজন সিলেট নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং দুজন হবিগঞ্জের লাখাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত সিলেট বিভাগে মোট ২৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে হবিগঞ্জ জেলায় ১৩ জন, সুনামগঞ্জে ৬ জন, সিলেট জেলায় ৩ জন এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে মৌলভীবাজার জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি।
ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ার প্রেক্ষাপটে সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাঠে নেমেছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। মঙ্গলবার সকালে নগরভবন প্রাঙ্গণ থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে র্যালিটি নগরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পুনরায় নগরভবনে গিয়ে শেষ হয়।
র্যালি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গুমুক্ত নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এখন ডেঙ্গুর মৌসুম শুরু হওয়ায় সবাইকে আরও বেশি সচেতন হতে হবে। বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং কোথাও যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সিলেট নগরে কোনো ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়নি। তবে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ এবং বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। পাশাপাশি মসজিদের জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সিসিক প্রশাসক আরও জানান, নিয়মিত মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি আগামী মাস থেকে নগরের বাসাবাড়িতে গিয়ে এডিস মশার লার্ভা আছে কি না তা পরীক্ষা করা হবে। কোথাও লার্ভা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এর উৎপত্তিস্থল ধ্বংস করা হবে।
ডেঙ্গু, সিলেট, ডেঙ্গু সংক্রমণ, ডেঙ্গু রোগী, সিলেট সিটি করপোরেশন, সিসিক, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, এডিস মশা, মশক নিধন