২৬ মে ২০২৬

দৈনন্দিন

শিশু ফাহিমা ও র‌্যাব সদস্য হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জামায়াতের

প্রকাশঃ ২৫ মে, ২০২৬ ৮:০৩ অপরাহ্ন


সিলেট সদর উপজেলার সোনাতলায় পাশবিক নির্যাতন ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার চার বছরের শিশু ফাহিমার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সিলেট মহানগর জামায়াত। সোমবার (২৫ মে) দুপুরে ফাহিমার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান দলটির নেতারা এবং ঈদ উপলক্ষে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

 

আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করেন নিহত ফাহিমার বাবা রায়ছুল হক ও মা রুবেনা বেগম।

 

জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম-এর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মো. শাহজাহান আলী, সদর উপজেলা জামায়াতের আমির নাজির উদ্দিন, নায়েবে আমির আব্দুল লতিফ লালা, সেক্রেটারি আল ইমরান, ৮ নম্বর কান্দিগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মনাফ এবং কান্দিগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।


এসময় মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, শিশু ফাহিমার প্রতি নৃশংসতায় গোটা জাতি শোকে স্তব্দ ও বিক্ষুব্ধ। একটি ছোট্ট শিশুর উপর এমন বর্বরতা কোন সভ্য সমাজে মেনে নেয়া যায়না। সিলেটের ফাহিমা, ঢাকার রামিসাসহ দেশব্যাপী শিশুদের উপর পাশবিক নির্যাতন ও খুনের ঘটনায় জড়িত প্রায় সকলেই মাদকসেবী। কিন্তু মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকার কার্যকর ভুমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। 

 

তিনি বলেন, ফাহিমা হত্যাকান্ডের এতদিন পরও এখনো অভিযোগপত্র দাখিল না হওয়া দুঃখনজনক। আদালত খোলার প্রথম কার্যদিবসে অভিযোগপত্র দাখিলের জোর দাবী জানাচ্ছি।


তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে মেহেরপুরে প্রথমবারের মতো শিশু ধর্ষন ও খুনের বিচার ২৯ দিনে সম্পন্ন হয়েছে। এটি একটি ইতিবাচক দিক। অল্প সময়ে ঢাকার রামিসা হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল হয়ে গেছে। ফাহিমার চার্জশীট দাখিলে ধীরগতি কেন সিলেটবাসী জানতে চায়। 

 

র‍্যাব সদস্য ইমন হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে মহানগর জামায়াত আমীর বলেন, দুঃখনজক হলেও সত্য যে, সিলেটে মাদকসেবীর ছুরিকাঘাতে একজন র‌্যাব সদস্য খুন হয়েছেন। হত্যায় জড়িত ছেলেটি বিএনপির প্রভাবশালী নেতার ছেলে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই, মাদকসহ নানা মামলা থাকলেও এতদিন গ্রেফতার করা হয়নি। যার ফলে একজন্য র‌্যাব সদস্যকে জীবন দিতে হয়েছে। 

 

তিনি উল্লেখ করেন, ইতোপূর্বে অপহরনকারী চক্রের সদস্য হিসেবে এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিলেট-১ আসনের সরকারদলীয় এমপি নির্বাচনের আগে ঘোষণা দিয়েছিলেন মাদকের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করবেন। কিন্তু এর দৃশ্যমান অ্যাকশন সিলেটবাসী দেখতে পায়নি। সিলেটে দিন দিন ছিনতাই ও রাহাজানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনগণ আতংকিত। সিলেটবাসী এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতির ৫০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রমাণ করে সিলেটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কত অবনতি ঘটছে। এভাবে কোন রাষ্ট্র ও সমাজ চলতে পারেনা। মাদক নির্মুল ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। শিশু ফাহিমার বিচার ১ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। 


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

শিশু ফাহিমা হত্যা, সিলেট জামায়াত, ফাহিমার পরিবার, দ্রুত বিচার দাবি, সিলেট সংবাদ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ