সিলেটে হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু
যাপিতজীবন
প্রকাশঃ ২০ মে, ২০২৬ ৬:৫০ অপরাহ্ন
দেশে সম্ভাব্য টিকা–সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে আগেই একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ। সংস্থাটি জানিয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠি এবং ১০টি বৈঠকে তারা টিকা–সংকটের আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছিল।
বুধবার (২০ মে) রাজধানীতে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনার পর সময়মতো দেশে টিকা পৌঁছায়নি। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় টিকাদান কার্যক্রমে। তবে ইতিবাচক দিক হল, ইতিমধ্যে ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা সংবাদ সম্মেলনে টিকা–সংকটের কারণ, সংকট মোকাবিলায় ইউনিসেফের ভূমিকা এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর উপায় নিয়ে কথা বলেন রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।
টিকা–সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার চাইলে ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে। কেননা ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।
রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, সরকার চাইলে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কিনতে পারে, তবে এ প্রক্রিয়ায় প্রায় এক বছর সময় লাগে। ইউনিসেফের মাধ্যমে দ্রুত টিকা সংগ্রহ সম্ভব হয়। তবে টিকার পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত রাখা অত্যন্ত জরুরি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৬০ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের বেশির ভাগই শিশু। এখন পর্যন্ত ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ৪৭৫ জন। দেশে গত আড়াই দশকে হামে এত মৃত্যু ও সংক্রমণ আগে দেখা যায়নি।
তথ্য অনুযায়ী, ২০০৫ সালে দেশে সর্বোচ্চ ২৫ হাজার ৯৩৪ জন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছিল। এরপর সংক্রমণ ধারাবাহিকভাবে কমে আসে। ২০২৫ সালে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩২।
এর আগের পাঁচ বছরে (২০২০–২০২৪) রোগীর সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৪১০, ২০৩, ৩১১, ২৮১ ও ২৪৭ জন। ওই সময়ে হামে মৃত্যুর ঘটনা ছিল না বললেই চলে।
ইউনিসেফ, টিকা সংকট, হাম প্রাদুর্ভাব, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, রানা ফ্লাওয়ার্স, হাম টিকা, শিশুমৃত্যু, টিকাদান কর্মসূচি, ইউনিসেফ বাংলাদেশ