উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থায়ন খরচ কমানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ১১ মে, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন
দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও দখল-ব্যবস্থাপনার নানা ধাপ পেরিয়ে প্রথমবারের মতো কাজির বাজার পশুর হাটের নিয়ন্ত্রণ বুঝে পেয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। এদিকে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর দুই কোটি ৬১ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে। সিলেট মহানগর বিএনপির সহসভাপতি মাহবুব কাদির শাহী হাটটি ইজারা পেয়েছেন।
সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব হাট ইজারার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, অর্ধশতাব্দীরও বেশি আগে দক্ষিণ সুরমার বরইকান্দির বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সালিশি ব্যক্তিত্ব মকন মিয়া কাজির বাজার এলাকায় পশুর হাটটির কার্যক্রম শুরু করেন। খানবাহাদুর এহিয়া ওয়াক্ফ এস্টেটের জায়গায় গড়ে ওঠা এই হাট সময়ের ব্যবধানে সিলেট অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় পশুর হাটে পরিণত হয়।
মকন মিয়ার মৃত্যুর পর তার মেয়ে হামিদা খাতুনের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে হাটটি পরিচালনা করে আসছিলেন তার নাতি আফছর উদ্দিন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হাটবাজার জেলা প্রশাসনের আওতাধীন হলেও ওয়াক্ফ এস্টেটের সঙ্গে মামলা চলমান থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আফছর উদ্দিনের ব্যবস্থাপনাতেই পরিচালিত হয়ে আসছিল হাটটি।
পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশনার পর জেলা প্রশাসন হাটটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সিলেট সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করে। প্রায় আট বছর পর এবার প্রথমবারের মতো হাটটির পূর্ণ দখল বুঝে পায় সিসিক।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নতুন ব্যবস্থাপনায় হাটে হাসিল আদায়ের কাজ শুরু হয়েছে। ছোট একটি পুরোনো স্থাপনায় বসে সংশ্লিষ্টরা হাট পরিচালনার কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ইজারাদারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কাজির বাজার পশুর হাটের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখা। কারণ আগে হাটের আয়তন ছিল একশ’ শতকের বেশি, কিন্তু বর্তমানে প্রায় অর্ধেক জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে পশুর সংখ্যা বাড়লে স্থান সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জানা গেছে, সিলেট বিভাগের বড় ও স্থায়ী পশুর হাটগুলোর মধ্যে কাজির বাজার অন্যতম পুরোনো ও জনপ্রিয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকাররা এখানে পশু নিয়ে আসেন। জনপ্রিয়তা ও হাসিল আদায়ের দিক থেকে এখনও এটি বিভাগের শীর্ষ হাট হিসেবে বিবেচিত।
সিসিক সূত্রে জানা যায়, এক বছরের জন্য হাটটি দুই কোটি ৬১ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। ভ্যাট-ট্যাক্সসহ এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় তিন কোটি ৪০ লাখ টাকা। ইজারা নিয়েছেন মাহবুব কাদির শাহী ও তার সহযোগীরা।
বর্তমান ইজারাদার মাহবুব কাদির শাহী জানান, আমরা হাটের বন্দোবস্ত বুঝে নিয়ে ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছি। মানচিত্র অনুযায়ী নির্ধারিত স্থানের বাইরে আরও কিছু জায়গা রয়েছে। স্থান সংকুলানের বিষয়টি সিসিক দেখবে।
অন্যদিকে আফছর উদ্দিনের ম্যানেজার শাহাদত হোসেন লোলন জানান, আমরা পশুর হাটের জায়গা ছেড়ে দিয়েছি। হাটের প্রায় ৫১ শতক জায়গা রয়েছে। তবে আশপাশের কিছু জায়গা ও স্থাপনা আফছর উদ্দিনের ব্যক্তিমালিকানাধীন।
সিসিকের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘বৈশাখের ১ তারিখে আমরা (সিসিক) ইজারা দিয়েছি। সিটি করপোরেশনের মধ্যে থাকা সকল হাট বাজারের ইজারা দেওয়ার এখতিয়ার সিটি করপোরেশনের। এ বছরই প্রথমবার দুই কোটি ৬১ লাখ টাকায় হাটটি ইজারা দেওয়া হয়েছে।’
কাজির বাজার পশুর হাট, সিসিক ইজারা, সিলেট হাট বাজার, মাহবুব কাদির শাহী, সিলেট পশুর হাট