রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ
মানবপাচারের অভিযোগে বাংলাদেশি ট্রাভেল এজেন্সির বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৭ মে, ২০২৬ ১:৩৭ অপরাহ্ন
রাশিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের পাচার এবং ইউক্রেন যুদ্ধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে নতুন করে ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। এই তালিকায় বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের নামও রয়েছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর এ নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। দেশটির ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং ইন পারসনস স্যাংশনস রেগুলেশনস ২০২৫’-এর আওতায় এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকারের অভিযোগ, রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হচ্ছে, আবার কাউকে ড্রোন ও অস্ত্র কারখানায় কাজে লাগানো হচ্ছে।
নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়া বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেডের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনকে রাশিয়ায় পাঠানোর কার্যক্রমে তারা জড়িত ছিল। যদিও প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অনলাইন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচয় দিয়ে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সহায়তা ও ট্যুর প্যাকেজ সেবা দিয়ে থাকে।
যুক্তরাজ্যের দাবি, উন্নত জীবনের আশায় থাকা অভিবাসীদের টার্গেট করে এসব নেটওয়ার্ক রাশিয়ায় নিয়ে যাচ্ছে এবং পরে তাদের যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ‘আলাবুগা স্টার্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগের অভিযোগও তুলেছে দেশটি ।
নতুন নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাইল্যান্ড, চীনসহ বিভিন্ন দেশের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা রাশিয়ার ড্রোন উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাশিয়ার ‘ভিটি-৪০’ অ্যাটাক ড্রোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী পাভেল নিকিতিনের নামও রয়েছে।
এছাড়া পোলিনা আলেকজান্দ্রোভনা আজার্নিখ নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাজ্যের অভিযোগ, তিনি মিসর, ইরাক, নাইজেরিয়া, মরক্কো ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে লোকজন সংগ্রহ করে রাশিয়ায় পাঠানোর সঙ্গে জড়িত।
যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞাবিষয়ক মন্ত্রী স্টিফেন ডাউটি বলেছেন, ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে নিতে অসহায় মানুষদের শোষণ করা অত্যন্ত নৃশংস কাজ। মানবপাচারকারী ও অবৈধ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের কার্যক্রম ব্যাহত করতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, এই আইনের আওতায় বিশ্বের যেকোনো স্থানে মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসন কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা, ড্রিম হোম ট্রাভেলস, মানবপাচার, রাশিয়ায় অভিবাসী