ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতে ৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা প্রণোদনার প্রস্তাব: বাণিজ্যমন্ত্রী
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬ ২:৩৫ অপরাহ্ন
পবিত্র ঈদুল ফিতর ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সিলেট নগরের বিভিন্ন দর্জি পল্লিতে বেড়েছে কর্মব্যস্ততা। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দম ফেলার ফুসরত নেই দর্জিদের। সেলাই মেশিনের শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে টেইলার্স দোকানগুলো। নতুন পোশাকের অর্ডার আর ডেলিভারির চাপ সামলাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দর্জির কারিগররা।
নগরের জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, আম্বরখানা, দর্জিপাড়া, মির্জাজাঙ্গাল এলাকার বিভিন্ন টেইলার্স দোকানে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি দোকানেই চলছে পোশাক তৈরির ব্যস্ততা। কোথাও কাপড় কাটা হচ্ছে, কোথাও সেলাই মেশিনে পোশাক তৈরির কাজ চলছে, আবার কোথাও শেষ মুহূর্তের ফিনিশিংয়ের কাজ করছেন কারিগররা।
দর্জিরা জানান, রমজানের শুরু থেকেই পোশাক সেলাইয়ের অর্ডার নেওয়া শুরু হলেও ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকে কাজের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে নারীদের থ্রি-পিস, কামিজ ও গাউনের পাশাপাশি পুরুষদের পাঞ্জাবি ও পায়জামা সেলাইয়ের চাহিদা বেশি।
নগরীর দর্জিপাড়া এলাকার একটি টেইলার্স দোকানের মালিক আব্দুল করিম বলেন, ঈদের সময় আমাদের সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। প্রতিদিনই অনেক অর্ডার আসছে। এখন নতুন অর্ডার নেওয়া প্রায় বন্ধ করে দিয়েছি, কারণ আগের অর্ডার সময়মতো শেষ করাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
বন্দরবাজার এলাকার এক দর্জি কারিগর নাসির উদ্দিন বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত টানা কাজ করতে হয়। রোজা রেখেই সেলাইয়ের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। চেষ্টা করছি যেন গ্রাহকদের পোশাক সময়মতো বুঝিয়ে দিতে পারি।
তিনি জানান, অনেক ক্রেতাই ঈদের আগে নতুন পোশাক বানাতে দর্জির দোকানে আসছেন। কেউ পাঞ্জাবি, কেউ সালোয়ার-কামিজ আবার কেউ নতুন ডিজাইনের পোশাক বানানোর অর্ডার দিচ্ছেন।
নগরের আম্বরখানা এলাকায় পোশাক সেলাই করতে আসা কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, দোকান থেকে কেনা পোশাক অনেক সময় ঠিকমতো ফিট হয় না। তাই ঈদের জন্য নিজের পছন্দের ডিজাইন অনুযায়ী পোশাক বানাচ্ছি।
শুকরিয়া মার্কেটের দর্জি ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, বর্তমানে তৈরি পোশাকের বাজার বড় হলেও ঈদের সময় অনেকেই পছন্দমতো ডিজাইনের পোশাক বানাতে দর্জির দোকানে ভিড় করেন। এতে এই সময়টাতে দর্জিদের কাজের চাপ অনেক বেড়ে যায়।
এদিকে অনেক ক্রেতা বাজার থেকে তৈরি পোশাক কিনে এনে নিজেদের মাপে ঠিক করার জন্যও দর্জিদের কাছে দিচ্ছেন। ফলে সেলাইয়ের পাশাপাশি পোশাক ঠিকঠাক করার কাজও বেড়েছে।
দর্জিরা বলছেন, ঈদের আগের এই সময়টাই তাদের বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। অনেক সময় গ্রাহকদের অর্ডার সময়মতো দিতে রাত জেগেও কাজ করতে হয়।
নগরের মির্জাজাঙ্গাল এলাকার দর্জি কারিগর জাহিদ মিয়া বলেন, ঈদের আগে প্রায় প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করতে হয়। এই সময়টাতেই বেশি আয় হয়, তাই কষ্ট হলেও কাজ চালিয়ে যাই।
সিলেট, দর্জি, ঈদ উল ফিতর, ব্যবসা