উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে অর্থায়ন খরচ কমানোর তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ১২:৩৮ অপরাহ্ন
রমজানকে সামনে রেখে বাজারে লেবুর দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এক মাস আগেও যে লেবু প্রতি হালি ২৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, বর্তমানে তা সাইজভেদে ৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের লেবু ২০০ টাকা, মাঝারি ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা এবং ছোট আকারের লেবু ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ এ মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতারা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, অনাবৃষ্টি ও রমজানকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদার যৌথ প্রভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটে ব্যবসা করা ময়মনসিংহের এক আড়তদার নাজমুল হাসান জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় বাগানে লেবুর ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। অন্যদিকে রমজানে ইফতার ও বিভিন্ন খাবারে লেবুর ব্যবহার কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কম।
আরেক ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল ও ময়মনসিংহ এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি লেবু আসে। এসব অঞ্চলেও এবার ফলন কম হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। তিনি জানান, রমজান শেষ হলে কিংবা পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে দাম কিছুটা স্বাভাবিক হতে পারে।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, আড়ত থেকে সাইজ অনুযায়ী প্রতি পিস লেবু ২০ থেকে ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিক মজুরি, বাজার খরচ যোগ হয়ে খুচরা পর্যায়ে দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। বিক্রেতা মুসাব্বির মিয়া বলেন, “চাহিদার তুলনায় বাজারে লেবুর সরবরাহ এক-চতুর্থাংশে নেমে এসেছে। আড়তে গিয়েও পর্যাপ্ত লেবু পাওয়া যাচ্ছে না। বেশি দামে কিনে কম লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।”
এদিকে চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল শুধু চা নয়, লেবু ও আনারস উৎপাদনের জন্যও দেশজুড়ে সমাদৃত। এখানকার কাগজি, জারা ও চায়না জাতের লেবু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন পাইকারি আড়তে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু এবার উৎপাদন কমে যাওয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের বিক্রেতা রিপন মিয়া জানান, আগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ পিস লেবু বিক্রি হতো। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ পিসে। অনেক ক্রেতাই দাম শুনে ফিরে যাচ্ছেন। তাঁর ভাষ্য, “দাম বাড়ায় বিক্রিও কমে গেছে। আমরা নিজেরাও বিব্রত।”
উৎপাদন পর্যায়ের চিত্রও আশাব্যঞ্জক নয়। ব্যবসায়ী বারিক মিয়া বলেন, পাহাড়ি বাগানগুলোতে দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে গাছে স্বাভাবিক ফলন হয়নি। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ২৫০ থেকে ৩০০টি লেবু পাওয়া যেত, এখন অনেক বাগানে ১০ থেকে ১৫টির বেশি ফলন হচ্ছে না। এতে সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলাউদ্দিন জানান, উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবুর চাষ হয়। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তবে চলতি মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
এ ব্যাপারে সিলেট অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, সিলেট লেবু চাষাবাদাদের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল, এখানকার মাটি এসিডিক মাটি তাই এই অঞ্চলে লেবু, কমলা এসবের ভালো ফলন হয়। তবে এবার হঠাৎ লেবুর দাম বাড়ার পেছনে অসময় দায়ী। এখন লেবু বাগানগুলোতে ফুল আসা শুরু করেছে মাত্র আশা করা যায় এ মাস পরেই লেবুর দাম কমে যাবে।
তিনি আরও বলেন, গেল বছর বৃষ্টিপাত কিছুটা কম হয়েছে যার জন্য ফলন তেমন হয়নি কিন্তু এভাবে দাম বাড়ার কথা ছিল না। এজন্য বাজারে লেবুর দাম বাড়ার পিছনে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীকে দায়ী করেছেন তিনি।
লেবুর দাম, বাজারদর, মূল্যবৃদ্ধি, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুচরা বাজার