১২ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত ৪৯.২ মিমি, সিলেটে ফের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা
প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ
প্রকাশঃ ২৪ জানুয়ারী, ২০২৬ ৬:১৪ অপরাহ্ন
সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা ডিবির হাওরের একাংশে অবস্থিত লাল শাপলা বিলে কচুরিপানার আগ্রাসনে এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন পরিবেশ সংগঠকরা। বিলটির প্রতিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় দ্রুত কচুরিপানার বিস্তার রোধ এবং সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’–এর কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষকদের একটি প্রতিনিধি দল ডিবির হাওরের শাপলা বিল ও রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন দলে আরও ছিলেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ও ধরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জহিরুল হক, জার্মান প্রবাসী লেখক ও ঐতিহ্য গবেষক সাকি চৌধুরী, ধরা সিলেটের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, সদস্যসচিব আব্দুল করিম কিম এবং পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অ্যাডভোকেট গোলাম সোবাহান চৌধুরী।
পরিদর্শনকালে জৈন্তিয়া ফটোগ্রাফি সোসাইটির সভাপতি মো. খায়রুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান করিম সাব্বির ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল হোসেন মো. হানিফ স্থানীয় উদ্যোগে গড়ে ওঠা ‘তরুছায়া প্রকল্প’ সম্পর্কে প্রতিনিধি দলকে অবহিত করেন। প্রকল্পটির আওতায় শাপলা বিলের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় তিন হাজার গাছ রোপণ করা হয়েছে।
প্রায় দেড় ঘণ্টার পরিদর্শন শেষে সংবাদপত্রে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রতিনিধি দল জানায়, যেভাবে কচুরিপানার বিস্তার ঘটছে, তাতে অচিরেই শাপলা বিলের সার্বিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। মতবিনিময়কালে ডিবির হাওরের রাস্তার পাশে রোপণ করা কিছু গাছ স্থানীয় বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মত দেন তারা।
এ সময় রাজা বিজয় সিংহের সমাধিসৌধ সংরক্ষণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শাপলা বিলের প্রাণ–প্রকৃতি ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় কচুরিপানাসহ অন্যান্য আগ্রাসী উদ্ভিদ প্রতিরোধে নিয়মিত কার্যক্রম চালুর দাবি জানান পরিবেশ সংগঠকরা। বিল এলাকায় হিজল, করচ, তাল, সুপারি প্রভৃতি দেশীয় বনজ, ফলজ ও ঔষধি গাছ রোপণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
প্রতিনিধি দল আরও জানায়, শাপলা বিল শুধু একটি প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র নয়, বরং জৈন্তিয়ার রাজা বিজয় সিংহের স্মৃতিবাহী একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী স্থান। ১৭৮৭ সালের দিকে রাজা বিজয় সিংহকে এই হাওর এলাকাতেই হত্যা করা হয় এবং এখানে তাঁর সমাধিসৌধ স্থাপন করা হয়। দুই শতাধিক বছরের পুরোনো এ সমাধিসৌধটি অযত্নে পড়ে থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তারা।
পরিদর্শকরা শাপলা বিল ও আশপাশের এলাকা ময়লা-আবর্জনামুক্ত রাখা, পর্যটকদের জন্য ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্ব দেন।
পরিবেশ সুরক্ষা ও সবুজায়ন, শাপলা বিল, কচুরিপানার আগ্রাসন, সিলেট