২৭ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / নগরজীবন

সিলেটে ঊর্ধ্বমূখী সবজির বাজার, বাড়ছে অস্বস্তি

মিফতা হাসান

প্রকাশঃ ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:১২ অপরাহ্ন


মৌসুমভিত্তিক চাষাবাদের হিসেবে সিলেটে রবি ফসলের শেষ মুহুর্ত চলছে। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শীতকালীন সবজি বাজারে নেই বললেই চলে। যা রয়েছে তা, সিলেটের বাইরের সবজি। শীতকালীন সবজি না থাকায় ফের ঊর্ধ্বমূখী কাঁচামাল। রোজার আগে থেকে বাজারে যে স্বস্তি ছিল, তা এখন আর নেই। 


বর্তমানে বাজারে আসতে শুরু করেছে ঝিঙা, চাল কুমড়া, করোলা ও ঢেঁড়সসহ গ্রীষ্মকালীন সবজি। শীতকালীন সবজির বিদায় আর গ্রীষ্মকালীন সবজির আগমনের এই সময়ে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। 


শুরুতেই আকাশচুম্বী দাম গ্রীষ্মকালীন সবজির। আর সিলেটে বৃষ্টিপাতের অজুহাতে খুচরা বাজারে দাম আরও বেশি হাঁকাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। 


সোমবার (২৮ এপ্রিল) সিলেটের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে প্রতিকেজি ঝিঙা ৮০-১০০, করোলা ৬০-৭০ টাকা, চাল কুমড়া-৮০, বরবটি ৬০-৭০ ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা ও পেঁপে ৭০-৮০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়াও  খুচরা বাজারে প্রতিকেজি টমেটো ৫০-৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০-১০০ টাকা, গাজর ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৬০-৭০ টাকা, বিক্রি করছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।


গত সপ্তাহে প্রায় একই অবস্থা ছিল। তবে কিছু কিছু সবজির দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা করে বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম। যার কারণে কিছু কিছু সবজির দাম বেড়েছে। তবে বেশিরভাগ সবজির দাম স্থিতিশীল রয়েছে। 


হঠাৎ করে দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকায় বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষেরা। সীমিত আয়ে বাজারমূল্যের সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।


একই অবস্থা চাল-ডালের বাজারেও। আম্বরখানা, রিকাবীবাজার, মদিনা মার্কেট ও বন্দরবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বাজারের সব পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বর্তমানে প্রতি কেজি চাল ৬০-৮০ টাকা, তেল প্রতি লিটার ১৮৯ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ টাকা, ছোলার ডাল ১৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, আদা ১৪০ টাকা এবং চিনি ১২০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। গত সপ্তাহের তুলনায় এসব পণ্যের দাম কেজিতে ন্যূনতম ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 


আট সদস্যের পরিবার নিয়ে সিলেট নগরীর চৌকিদেখী এলাকায় বাস করেন রিকশাচালক রশিদ মিয়া। অভাব-অনটন ও টানাপোড়েনে দিন কাটে তার। প্রতিদিন রিকশা চালিয়ে যে সামান্য আয় হয়, তার বেশিরভাগই চলে যায় বাজার-সদাইয়ে।


একই পরিস্থিতি চা বিক্রেতা তাজুল ইসলামেরও। নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার ফলে ৫ টাকার চা ১০ টাকায় বিক্রি করেও স্ত্রী সন্তান নিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাকে। অনেক সময় বাসা ভাড়া দিতেও খেতে হয় হিমশিম।


নিত্যপণ্যের দাম বাড়ায় ঠিক এভাবেই বিপাকে পড়েছেন সিলেটের নিম্ন-আয়ের মানুষজন। গেল বছরের ৫ আগস্টের পরে পণ্যের দাম কিছুটা কমলেও সম্প্রতি বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে রয়েছেন মধ্যবিত্তরাও। এমনটাই বলছিলেন আম্বরখানায় বাজার করতে আসা জামাল উদ্দিন নামে এক মধ্যবিত্ত।   


রিকশাচালক রশিদ মিয়া বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে মালিকের টাকা দিয়ে ৪-৫শ' টাকা হাতে থাকে। চাল, ডাল, শাক-সবজি কিনে এই টাকা দিয়ে তেমন কিছুই কেনা যায় না। এমনও দিন আছে বাসায় গিয়ে দেখি পকেটে ৫০ টাকাও নাই।' 


তিনি আরও বলেন, ‘মাস শেষে যে টাকা থাকে তা দিয়ে বাসা ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয় না, অনেক সময় ঋণ করে বাসাভাড়া দিতে হয়।‘


চা বিক্রেতা তাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে ৫ টাকা করে চা বিক্রি করেও সংসার চলতো। এখন প্রতিকাপ ১০ টাকায় বিক্রি করেও চলে না। ৫০০ টাকা নিয়ে বাজারে গেলে মাছ, শাক-সবজি কিনলে চাল কেনার টাকাও থাকে না। এতে করে খুব কষ্টে দিন পার করতে হয়।'


দাম বৃদ্ধির বিষয়ে আম্বরখানা এলাকার ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, শাক-সবজির মৌসুম না থাকায় এবং বৃষ্টির কারণে নিয়মিত পণ্য সরবরাহ না হওয়ায় পণ্যের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।’


তিনি বলেন, প্রায় প্রতিটি পণ্যের দাম কেজিতে ২-৩ টাকা বেড়েছে। তবে আলুর দাম এখনো স্থিতিশীল রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এখন শাক-সবজির মৌসুম নয়, তার ওপর বৃষ্টির কারণে পণ্যের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে।‘


মদিনা মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী হারুন মিয়া বলেন, বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। যার কারণে অনেক সবজি বাড়তি দাম দিয়ে কিনে আনতেও হয়। এজন্য বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। 


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

নিত্যপণ্য, সবজি, কাচামাল, সিলেট, বাজারদর

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ