২৭ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / আন্দোলন-বিক্ষোভ

সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদ

সুনামগঞ্জে সড়ক অবরোধ করে বাসের কাগজপত্র যাচাই করলেন শিক্ষার্থীরা

প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ ও শান্তিগঞ্জ

প্রকাশঃ ৭ আগস্ট, ২০২৫ ৬:০৭ অপরাহ্ন

ছবিঃ নোহান আরেফিন নেওয়াজ/সিলেট ভয়েস।

সুনামগঞ্জ-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দুই শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার পর ফুঁসে উঠেছে শিক্ষার্থীরা। 

আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল থেকেই শান্তিগঞ্জ পয়েন্টে সড়ক অবরোধ করে ফিটনেসবিহীন বাস ও মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (সুবিপ্রবি) এবং টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে শিক্ষার্থীরা একে একে মহাসড়কে চলাচলকারী বাসগুলো আটকে কাগজপত্র যাচাই করতে থাকেন। বেশিরভাগ বাসেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুপস্থিত বা মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়া যায়।

শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দুর্ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পার হলেও ঘাতক বাসচালক এখনো গ্রেপ্তার হয়নি। তারা প্রশ্ন তোলেন—“আমরা কি মরার পরও বিচার পাব না?”

এ সময় শিক্ষার্থীরা ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, “ঘাতক চালক ও মালিককে গ্রেপ্তার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দেওয়া হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।”

টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী তাকবিল হোসেন বলেন, “পুলিশকে বারবার অনুরোধ করেছি যেন ফিটনেসবিহীন বাসগুলো আটক করে। কিন্তু তারা কিছু না করে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখেছে। বাধ্য হয়ে আমরা নিজেরাই কাগজপত্র যাচাই করেছি— কিন্তু একটি বাসও সঠিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এসব বাস যেন ঘাতক যন্ত্রে পরিণত হয়েছে।”

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুকান্ত সাহা বলেন, “শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা নিজেরাও চাই নিরাপদ সড়ক। তাদের দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে।”

অবরোধকালে শিক্ষাথীদের দাবির সাথে সংহতি জানান সুবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন ও সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ অনুপম কুমার দেবনাথ।

তারাও শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর তীব্র নিন্দা জানিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ককে নিরাপদ করতে রাস্তা বড় করা, চালক ও বাহনের লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতাসহ বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করেন।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাহাদুরপুর এলাকায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউটের শিক্ষার্থী আফসানা জাহান খুশি (১৭) সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী স্নেহা চক্রবর্তী (১৮) ও শফিকুল ইসলাম (৫০)। আহত আরও দুজন বর্তমানে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

সুনামগঞ্জ, সড়ক দুর্ঘটনা, সিলেট, বাস, অটোরিক্সা, নিহত, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইন্সটিটিউট,

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ