২৭ এপ্রিল ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

বিশ্ব বই দিবস আজ: বইপ্রীতির বিশ্বময় উৎস

ভয়েস ডেস্ক রিপোর্ট

প্রকাশঃ ২৩ এপ্রিল, ২০২৫ ১:২৯ পূর্বাহ্ন

ছবিঃ সিলেট ভয়েস গ্রাফিক্স

আজ ২৩ এপ্রিল, বিশ্ব বই দিবস। বইয়ের প্রতি ভালোবাসা এবং জ্ঞানার্জনের প্রতি উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ইউনেস্কোর উদ্যোগে পালিত হয় এই দিবস। ১৯৯৫ সালে শুরু হওয়া এই দিবস এখন বিশ্বব্যাপী বইপ্রীতিকে উদযাপন করার এক অনন্য উপলক্ষ। তবে কেবল আনন্দ উদযাপন নয়, এর পেছনে রয়েছে একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট।

বিশ্ব বই দিবসের উৎস খুঁজতে গেলে যেতে হবে স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহরে। ভিসেন্তে ক্লাভেল আন্দ্রেস, যিনি স্পেনের প্রখ্যাত লেখক মিগেল দে থের্ভান্তেসের অনুরাগী ছিলেন, প্রথম এই দিবসের প্রস্তাব করেন। দিবসটির লক্ষ্য ছিল থের্ভান্তেসের অবদানকে সম্মান জানানো। প্রথম দিকে এটি ৭ অক্টোবর পালিত হলেও পরে থের্ভান্তেসের মৃত্যুদিন ২৩ এপ্রিলকে চূড়ান্ত করা হয়।

ইউনেস্কো ১৯৯৫ সালে এই দিনটিকে 'বিশ্ব বই এবং কপিরাইট দিবস' হিসেবে ঘোষণা করে। এই দিনটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই দিনে শেক্সপিয়ার, থের্ভান্তেস এবং ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগার জন্ম বা মৃত্যুবার্ষিকী রয়েছে। এটি ইতিহাসের এক ব্যতিক্রমী সমন্বয়।

বিশ্ব বই দিবস এখন কোনো একটি অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি এক বৈশ্বিক উৎসব। স্পেনের কাতালোনিয়া অঞ্চলে সেন্ট জর্জ দিবসের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে গোলাপ এবং বই বিনিময়ের মাধ্যমে দিবসটি উদযাপিত হয়। বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রন্থাগার, এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো পাঠাভ্যাস নিয়ে আলোচনা, দেয়ালপত্রিকা প্রকাশ এবং বইয়ের মেলা আয়োজন করে।

বিশ্ব বই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে বই শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের জ্ঞানের আলো বাড়ানোর গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার। ডিজিটাল যুগে ই-বুক এবং অনলাইন সামগ্রী বইয়ের প্রথাগত ধারণাকে পরিবর্তন করেছে, কিন্তু বইয়ের প্রতি ভালোবাসা আজও অপরিবর্তিত।

বিশ্ব বই দিবস শুধু একটি নির্দিষ্ট দিন নয়, এটি এক অনুপ্রেরণার মুহূর্ত যা আমাদের বইয়ের প্রতি ভালোবাসার নবায়ন ঘটায়। পাঠকের জন্য বই কেবল একটি উপন্যাস, প্রবন্ধ বা গবেষণাগ্রন্থ নয়—এটি এক নতুন জগৎ, যেখানে প্রতিটি শব্দ এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার দোরগোড়ায় নিয়ে যায়।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

বিশ্ব বই দিবস, ২৩ এপ্রিল, শেক্সপিয়ার, থের্ভান্থেস, ইনকা গার্সিলাসো দে লা ভেগা, বই

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ