দিরাইয়ে নব দম্পতির অস্বাভাবিক মৃত্যু, সংকটে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ২২ এপ্রিল, ২০২৫ ৬:০৩ অপরাহ্ন
সিলেট বিভাগজুড়ে ভয়াবহ হারে পাহাড়-টিলা কাটা চলছে। কখনো প্রকাশ্যে, কখনো রাতের অন্ধকারে ভূমি শ্রেণি পরিবর্তন করে তৈরি হচ্ছে হাউজিং প্রকল্প কিংবা রিসোর্ট। বিশ্ব ধরিত্রী দিবস উপলক্ষে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)’ সিলেট শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে এ অভিযোগ ওঠে।
মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার। প্রধান বক্তা ছিলেন পরিবেশ আন্দোলনের সংগঠক ও সদস্য সচিব আব্দুল করিম কিম।
কর্মসূচিতে ধরার পক্ষ থেকে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়- সিলেট বিভাগের মধ্যে বর্তমানে পাহাড়-টিলা ধ্বংসে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিলেট জেলা। জৈন্তাপুরের পঞ্চাশের পাহাড়মালা, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ ও কানাইঘাটে পাহাড়-টিলা কর্তন হচ্ছে পাথর উত্তোলনে। যা এখন খনিজ সম্পদ আহরণ নামে অভিহিত হচ্ছে। হাজার কোটি কোটি টাকার পাথর আহরণের কারণে এই পাহাড়-টিলার বিনাশ থামছে না।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, গোলাপগঞ্জ, ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমা উপজেলায় স্রেফ জলাভূমি ভরাট ও মাটি বিক্রির জন্য টিলা কাটে একদল লোক। এরা টিলা বিনাশের জন্য টিলার মালিকদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়। সিলেট সদর উপজেলা ও সিটি কর্পোরেশনভুক্ত ওয়ার্ডসমুহে ৫ আগষ্ট পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্নস্থানে টিলা কাটা চলছে। সিলেট মহানগরীর আশপাশ এলাকার টিলাখেকোরা অতীতেও টিলা ধ্বংসে বিগত সরকারের সময়ের রাজনৈতিক পাণ্ডাদের আশ্রয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছিল। সরকার পরিবর্তনেও এদের প্রভাব ও স্বভাবের পরিবর্তন হয়নি। এক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারত। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সাথে লক্ষ্য করছি সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় জেলা প্রশাসনের ভূমিকা সাক্ষীগোপালের মতো। জেলা প্রশাসনকে সিলেটের পাহাড়-টিলা ধ্বংসের দায় নিতে হবে।
সিলেটের পাহাড়-টিলা রক্ষায় প্রশাসনের ব্যর্থতায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) জেলার কমরেড উজ্জ্বল রায় বলেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি এস এম মাসুদ হোসাইন দোলনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সিলেটের পাহাড়–টিলা কাটা রোধে জেলার পাহাড়–টিলা এলাকায় সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দিয়েছিলেন। সিলেটের জেলা প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, পরিবেশ অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালকসহ বিবাদীদের প্রতি এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে নির্দেশনা বাস্তবায়ন বিষয়ে ছয় মাস পরপর উচ্চ আদালতে প্রতিবেদন দিতেও বলা হয়েছিল। হাকিম নড়লেও হুকুম নড়ে না। কিন্তু মহামান্য হাইকোর্টের এই নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। যা আদালতকে অবজ্ঞা করা বলেই প্রতীয়মান হয়।
পরিবেশকর্মী রেজাউল কিবরিয়া-এর সঞ্চালনায় মানববন্ধন কর্মসুচিতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পাত্র সমাজ কল্যাণ পরিষদ (পাসকপ) এর প্রধান নির্বাহী আদিবাসী নেতা গৌরাঙ্গ পাত্র, সাবেক ছাত্রনেতা ও ধরার অন্যতম সংগঠক মাহমুদুর রহমান চৌধুরী (ওয়েস), ভূমিসন্তান বাংলাদেশ-এর আশরাফুল কবির, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারি সাদিকুর রহমান সাকী, আইনজীবি অরুপ শ্যাম বাপ্পী, চৈতন্য প্রকাশনী সিলেট-এর প্রকাশক রাজিব চৌধুরী, পরিবেশকর্মী রোমেনা বেগম রোজী ও সোহাগ তাজুল আমিন, গণতান্ত্রিক ছাত্র কাউন্সিল সিলেট এর সাধারন সম্পাদক আয়শা আখতার, ওয়ান আর্থ ইনেশিয়াটিভ শাহ্রিয়ার রহমান সাকিব, রাতারগুল গ্রামের অধিকারকর্মী মিনহাজ আহমেদ প্রমুখ।
সিলেট পাহাড় কাটার প্রতিবাদ, ধরিত্রী দিবস ২০২৫, সিলেট পরিবেশ আন্দোলন, টিলা ধ্বংস, পাহাড় রক্ষা মানববন্ধন, ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী, আব্দুল করিম কিম, বাসদ উজ্জ্বল রায়, হাইকোর্ট নির্দেশনা, পরিবেশ ধ্বংস সিলেট