সিলেটে সিএনজির ধাক্কায় প্রাণ গেল ব্লু বার্ড স্কুলের জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের
দৈনন্দিন
মুখোমুখি এনসিপি-বিএনপি নেতাকর্মী, শহরজুড়ে টানটান উত্তেজনা
প্রকাশঃ ৩০ জুলাই, ২০২৬ ১:৪৪ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলা এবং মৌলভীবাজারে পুলিশের বাধার ঘটনার পর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতারা বৃহস্পতিবার সিলেটে পৌঁছেছেন। তবে তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেটের গোলাপগঞ্জে তৈরি হয়েছে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।
সকাল থেকেই পৌরশহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে র্যাব, পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও সাদা পোশাকের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। একই সময়ে এনসিপি ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে শহরজুড়ে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার পারাইচক বাইপাস এলাকায় পৌঁছালে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান দলীয় নেতা-কর্মীরা। পরে তারা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) যান এবং সেখানেই অবস্থান নেন। সেখান থেকে তারা গোলাপগঞ্জে কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
এনসিপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বেলা ১টায় গোলাপগঞ্জ পৌরসভা হলরুমে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে নিহত সাত শহীদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর বিকেলে কানাইঘাট এবং সন্ধ্যায় ওসমানীনগরে পদযাত্রা শেষে সমাবেশ করবে দলটি। শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে আরও কর্মসূচি রয়েছে।
এদিকে সকাল ১১টা থেকে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা এলাকা, চৌমুহনীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। একই সময়ে সেখানে এনসিপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও জড়ো হন। এতে এলাকায় উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পোশাকধারী ১৬ জন র্যাব সদস্যের পাশাপাশি সাদা পোশাকে আরও ১০ জন র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া শতাধিক পুলিশ, এপিবিএন এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মোতায়েন রয়েছেন।
সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন বলেন, যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে।
হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের সাম্প্রতিক ঘটনার পর সিলেটে প্রশাসনের সতর্কতাও বেড়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে জৈন্তাপুর, গোলাপগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবি সদর দপ্তরে আবেদন পাঠিয়েছে জেলা প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের সুপারিশের ভিত্তিতে বিজিবি মোতায়েনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকি মোকাবিলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েনের আবেদন করা হয়েছে।
এনসিপির সিলেট জেলা শাখার সদস্যসচিব প্রকৌশলী কামরুল আরিফ বলেন, কেন্দ্রীয় নেতারা প্রথমে গোলাপগঞ্জে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এরপর কানাইঘাট ও ওসমানীনগরে সমাবেশে অংশ নেবেন। শুক্রবার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরে পদযাত্রা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচিতে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
অন্যদিকে স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের একাধিক নেতা-কর্মী জানিয়েছেন, কর্মসূচিতে সরকার বা বিএনপির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক কিংবা মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হলে তারা এর প্রতিবাদ করবেন। তবে এনসিপির পক্ষ থেকে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পালনের কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে হামলার ঘটনা ঘটে। ওই হামলার জন্য ছাত্রদলকে দায়ী করে অভিযোগ করেন এনসিপির নেতারা। এর প্রতিবাদে বুধবার হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হলেও মৌলভীবাজার থেকে সেখানে যাওয়ার পথে শ্রীমঙ্গল, রশিদপুর ও বাহুবলের কামাইছড়া এলাকায় একাধিকবার পুলিশের বাধার মুখে পড়ে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহর। পরে নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। রাতটি তারা মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে কাটিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটের উদ্দেশে রওনা হন।
এনসিপি, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জুলাই পদযাত্রা, সিলেট, গোলাপগঞ্জ, নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী