নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু বাংলাদেশের
খেলাধুলা-বিনোদন
প্রকাশঃ ১৪ জুন, ২০২৬ ৩:৫৮ অপরাহ্ন
একরাশ স্বপ্ন নিয়ে আরও একটি বিশ্বকাপে মিশন শুরুর অপেক্ষায় ইউরোপের পরাশক্তি জার্মানি। হিউস্টনে 'ই' গ্রুপের ম্যাচে ইউরোপের পাওয়ার হাউজ জার্মানির প্রতিপক্ষ ক্যারিবীয় দীপপুঞ্জের ছোট্ট দেশ কুরাসাও। ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আজ রাত ১১টায়।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সফল দল জার্মানি। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে পঞ্চম শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামছে। কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের অধীনে নতুন উদ্যমে গড়া দলটি তাদের মিশন শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া কুরাসাওয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।
'ই' গ্রুপে জার্মানির অন্য প্রতিপক্ষ আইভরিকোস্ট ও ইকুয়েডর। বিশ্বকাপে প্রথম বারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছে জার্মানি ও কুরাসাও। একদিকে বিশ্বকাপজয়ী ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ জার্মানি, অন্যদিকে ছোট্ট ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও। দুই ভিন্ন বাস্তবতার এই লড়াই ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেওয়ার হতাশা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়াতে চায় জার্মানরা। জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান উইর্টজ, জশুয়া কিমিচ ও কাই হাভার্টজদের নিয়ে গড়া দলটিকে অনেকেই শিরোপার অন্যতম দাবিদার মনে করছেন। তরুণ শক্তি, গতি ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে গড়া এই দল বিশ্বকাপ পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন দেখছে।
ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান বলেন, 'ছোট দল বলে কাউকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন।' অধিনায়ক কিমিচও সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'আমাদের লক্ষ্য ভালো ফুটবল খেলে তিন পয়েন্ট অর্জন করা।'
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির নতুন আশা এখন তরুণ তারকা জামাল মুসিয়ালা। মাত্র ২৩ বছর বয়সেই তিনি হয়ে উঠেছেন দলের সবচেয়ে বড় আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে বিশ্বকাপে ফিরে একটাই লক্ষ্য-জার্মানিকে আবারও বিশ্বসেরার আসনে বসানো। বায়ার্ন মিউনিখের এই সৃজনশীল মিডফিল্ডার তার দুর্দান্ত ড্রিবলিং, গোল করার সামর্থ্য ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের দক্ষতায় ইউরোপের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
জার্মানির জার্সিতে ৪২ ম্যাচে ৯ গোল করা মুসিয়ালা এখন কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যানের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু। মুসিয়ালা জার্মান সমর্থকদের কাছে তিনি এখন শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং ভবিষ্যতের স্বপ্ন ও আশার প্রতীক। তার পায়ের জাদুই হতে পারে জার্মানির বিশ্বকাপ মিশনের সবচেয়ে বড় শক্তি।
অন্যদিকে কুরাসাও কোচ ডিক অ্যাডভোকোট এটিকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অধিনায়ক কুকো মার্টিনার বিশ্বাস, বিশ্বকাপ এমন একটি মঞ্চ যেখানে এক রাতেই গল্প বদলে যেতে পারে। কাগজে-কলমে জার্মানি স্পষ্ট ফেভারিট হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। তাই আত্মবিশ্বাসী সূচনা করতে চায় জার্মানি, আর কুরাসাও স্বপ্ন দেখছে ইতিহাস গড়ার।
১ লাখ ৫৬ হাজার জনসংখ্যার দেশ কুরাসাওয়ের বিশ্বকাপ খেলতে আসাটাই একটা বিশাল চমক। তবে এই চমক দেখিয়েই বসে থাকার দল নয় ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জটি। অভিষেকেই চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অঘটনের জন্ম দিতে চায় ৪৪৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ রাষ্ট্রটি। কুরাসাওয়ের সব খেলোয়াড় আসলে নেদারল্যান্ডসের নাগরিক। তাই অঘটনের সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ১১টায় গ্রুপ ‘ই’ এর ম্যাচে হিউস্টনে মুখোমুখি হবে দুই দল।
এই অঘটনের স্বপ্ন দেখছেন কুরাসাওয়ের কোচ ডিক অ্যাডভোকেট। জার্মানির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচটি নিয়ে ডাচ এ কোচ বলেছেন, ‘যখন শুরু করেছি, তখন থেকেই জানি, আমরা ফেভারিট নই। যারা ফেভারিট নয়, তারা বিস্ময় উপহার দিতে পারে।’
এবারের আসরের সবচেয়ে বয়স্ক এ কোচের হাত ধরে অনেক চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে কুরাসাও। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে কুরাসাওদের হাল ধরেন অ্যাডভোকেট। তাঁর হাত ধরে কনকাফাফ অঞ্চলের বাছাইয়ে সর্বোচ্চ ২৮ গোল করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পায় দলটি। তবে অসুস্থ কন্যার পাশে থাকতে গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন ৭৮ বছর বয়সী এ ডাচ কোচ। অন্তর্বর্তী কোচ ফ্রেড রুটেনের অধীনে চীন ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে কুরাসাও বাজে খেললে আবার অ্যাডভোকেটকে ফেরানোর দাবি ওঠে। কন্যার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় গত মে মাসে আবার দায়িত্বে ফেরেন তিনি। তাঁর প্রত্যাবর্তনে আবার স্বপ্ন দেখছে কুরাসাও। ইতিহাসের সামনে দাঁড়িয়ে অ্যাডভোকেটও। জার্মানির বিপক্ষে ডাগ আউটে দাঁড়ালেই বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বয়স্ক কোচের রেকর্ডটি করে ফেলবেন তিনি।
জার্মানিকে হারিয়ে সেই উপলক্ষ রাঙাতে চান তিনি, ‘বিশ্বের সবচেয়ে ছোট দেশের কোচ হিসেবে বিশ্বকাপে যোগ্যতা অর্জনকে আমি ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত বলে মনে করি। আমি আমার খেলোয়াড়, স্টাফ ও বোর্ড সদস্য নিয়ে গর্বিত, যারা আমার ওপর আস্থা রেখেছিলেন।’
তবে দলটি জার্মানি বলেই এই অঘটনের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। যদিও তারা এবারের আসরে হটফেভারিটের তালিকায় নেই। তারপরও এক ঝাঁক তারকার সমন্বয়ে গড়া জার্মানিকে হিসাবের বাইরে রাখা যাবে না। জসুয়া কিমিক, এন্টিনিও রুডিগার, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিন উইর্টজ, কাই হাভার্টজের মতো বিশ্বমানের খেলোয়াড় রয়েছেন তাদের দলে। জার্মানি দলে চোট সমস্যা রয়েছে কেবল গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারের। ৪০ বছর বয়সী এ গোলরক্ষক জাতীয় দলের ডাকে অবসর ভেঙে ফিরে এসেছেন। তবে চোটের কারণে আজ তিনি হয়তো নাও নামতে পারেন।
কুরাসাওয়ের অবশ্য কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই। কাজেই পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে নামতে পারবেন তারা। অ্যাস্টন ভিলার সাবেক মিডফিল্ডার লিওনার্দো বাকুনা ও তাঁর ছোট ভাই জুনিনহো বাকুনা কুরাসাওয়ের মাঝমাঠের ভরসা। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা তাহিথ চোং হলেন তাদের আক্রমণভাগের ভরসা। কুরাসাওয়ের হয়ে ছয় ম্যাচে ৩ গোল করেছেন ২৬ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার। প্রতিভাবান এ স্ট্রাইকারই এবারের আসরে কুরাসাওয়ের অন্যতম ভরসা।
জার্মানি বনাম কুরাসাও, বিশ্বকাপ ২০২৬, জার্মানি ফুটবল দল, কুরাসাও বিশ্বকাপ