গোয়াইনঘাটে ডেটা শেয়ারিং বিষয়ক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৩ মে, ২০২৬ ৭:৫৫ অপরাহ্ন
মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অসহায় অবস্থায় পাওয়া যায় ছোট্ট স্বপ্না আক্তারকে। পরিচয়হীন সেই শিশুটিকে আশ্রয় দেয় সমাজসেবা অধিদপ্তর পরিচালিত সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র। দীর্ঘ ১৪ বছর পর সেই কেন্দ্রেই ঘটা করে বিয়ে হলো তার।
বুধবার (১৩ মে) দুপুরে সিলেটের শিবগঞ্জ লামাপাড়া এলাকায় অবস্থিত পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ছিল সাজসজ্জা, অতিথি আপ্যায়ন ও বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা।
সমাজসেবা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্নাকে উদ্ধার করার পর তাকে আশ্রয় দেওয়া হয় সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্রে। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনেই মারা গেছেন। ফলে তাকে আর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। সেখানেই শুরু হয় তার বেড়ে ওঠা। তাকে স্কুলে ভর্তি করা হয়। ধীরে ধীরে লেখাপড়া শিখে ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন তিনি।
বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক এস. এম. মোক্তার হোসেন জানান, স্বপ্নার বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে। কোনো অভিভাবক না থাকায় এবং তার সম্মতি নিয়েই আমরা বিয়ের আয়োজন করেছি। আমরা চেয়েছি, তার ভবিষ্যৎ যেন নিরাপদ ও সুন্দর হয়।
পাত্র সিলেটের বাসিন্দা এবং ইলেকট্রিকের ঠিকাদারি কাজ করেন। বিয়েতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা স্বপ্নার নামে এফডিআর করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন-এর প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত হয়ে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, আমার খুবই ভালো লেগেছে। সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র শুধু একটি পিতৃমাতৃহীন শিশুকে আশ্রয়ই দেয়নি, তাকে লেখাপড়া শিখিয়ে জীবন গড়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আজ তাকে বিয়ে দিয়ে তার ভবিষ্যতের ভিত্তিও তৈরি করে দিল। তিনি নবদম্পতির সুখী ও সুন্দর জীবনের প্রত্যাশা করেন।
শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, স্বপ্না আক্তার, সিলেট খবর, সমাজসেবা অধিদপ্তর, মানবিক বিয়ে