১১ মে ২০২৬

যাপিতজীবন / স্বাস্থ্য

সিলেটে হামের ভয়াবহ রূপ: এক শয্যায় একাধিক শিশু, বাড়ছে মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশঃ ১১ মে, ২০২৬ ৩:২০ অপরাহ্ন


সিলেটে হামের পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ বাড়তে থাকায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর চাপ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শরীরে র‍্যাশ ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে একের পর এক শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালগুলোতে।


এদিকে হঠাৎ রোগীর অতিরিক্ত চাপে সিলেটের হাসপাতালগুলোতে দেখা দিয়েছে তীব্র শয্যা সংকট। 


পরিস্থিতি সামাল দিতে কোথাও এক শয্যায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের হাসপাতালের মেঝেতেই সেবা নিতে হচ্ছে। শুধু শয্যা সংকটই নয়, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে আইসিইউ ইউনিটের অপ্রতুলতা। গুরুতর অবস্থায় থাকা শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় নিবিড় পরিচর্যা সেবা দিতে গিয়ে হাসপাতালগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।


সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ২৩ জন শিশু। এছাড়া শেষ ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৫ জন শিশু এবং গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩ জন।


নগরীর সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যার, হামের রোগীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ১৪ জন শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে স্থানান্তর করা হয় এখানে। স্থানান্তরিত সব শিশুর শরীরেই হামের উপসর্গ ছিল বলে জানা গেছে।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে একসঙ্গে ১৪ জন শিশুকে অ্যাম্বুলেন্সে করে সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে আনা হয়

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা অভিভাবকরা জানান, শিশুদের কয়েকদিন ধরে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দেওয়ার পর তাদের ভর্তি করা হয়েছে। অনেক শিশুর অবস্থাই গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজন পড়ছে।


শিশু শামীম আহমদের স্বজন জানান, শিশুর হামের লক্ষণ দেখা দেওয়ায় এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসকরা তার অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি।


অন্যদিকে লুবনা আক্তার নামের এক শিশুর মা বলেন, দুই দিন ধরে শিশুর জ্বরের পাশাপাশি শরীরে র‍্যাশ দেখা দেয়। পরবর্তীতে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্থানীয় চিকিৎসকের পরামর্শে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে এসে রোগীর ভিড় দেখে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়লেও সন্তানের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতের চেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।


শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি শুরু থেকেই হামের রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। তবে রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এখন পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তাই শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই গাদাগাদি করে রাখতে হচ্ছে।


এ ব্যাপারে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মিজানুর রহমান চৌধুরী বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেশি। কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। তারপরও রোগীদের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন।


এদিকে চলতি সপ্তাহ থেকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালুর কথা থাকলেও তা এখনো চালু হয়নি। এতে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।


চিকিৎসকরা মনে করছেন, দীর্ঘদিনের টিকা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, শিশুদের সময়মত টিকা না নেওয়া এবং দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণেই এবার জটিলতা ও মৃত্যুহার বেড়েছে।


এ ব্যাপারে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. সৈয়দ মর্তুজা আলী বলেন, আমরা প্রতিরোধমূলক টিকা কার্যক্রম চালাচ্ছি, পাশাপাশি চিকিৎসাও দিচ্ছি। তবে এর সুফল পেতে কিছুটা সময় লাগবে।


তিনি আরও বলেন, এই মুহূর্তে সিলেটে মৃত্যুহার কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। আমরা অভিভাবকদের অনুরোধ করব, বাচ্চার জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে।


শেয়ার করুনঃ

যাপিতজীবন থেকে আরো পড়ুন

সিলেট হামের পরিস্থিতি, শিশু রোগী, শয্যা সংকট, হাসপাতাল চাপ, হামের সংক্রমণ

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ