দম ফেলার ফুসরত নেই দর্জিদের
ব্যবসা-বাণিজ্য
প্রকাশঃ ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৮:৩০ অপরাহ্ন
নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়েই সিলেটে শুরু হয়েছে পবিত্র মাহে রমজান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) প্রথম রমজানের তারাবিহ’র নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়েই শুরু হচ্ছে রোজার আনুষ্ঠানিকতা। এবার রমজানে নিত্যপণ্যে স্বস্তি থাকবে কী না, শঙ্কা ছিল ক্রেতাদের। সেই শঙ্কা একেবারে বিফলে যায়নি। চাল-ডাল, মসূর, আদা-রসূন থেকে শুরু করে সবজি পর্য্নত প্রতিটি পণ্যের দামই বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক আছে তবে পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়েও তার প্রভাব পড়ছে। আর ক্রেতাদের অভিযোগ ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে প্রতিটি পণ্যের দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা করে। যা বাড়িয়ে তুলছে মধ্যবিত্ত ও দারিদ্র মানুষের খরচের হিসাব।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নগরের বন্দরবাজার, আম্বরখানা, সুবিদবাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রোজার প্রথম দিনের কেনাকাটায় ভিড় থাকলেও ক্রেতাদের আগ্রহের চেয়ে প্রয়োজনই বেশি। অনেকেই তালিকা ছোট করেছেন। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো একসঙ্গে বেশি কিনছেন না প্রতিদিনের চাহিদা অনুযায়ী কিনে বাড়ি ফিরছেন।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোলা, মসুর ডাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও খেজুর রমজানকেন্দ্রিক প্রধান পণ্যগুলোর বেশির ভাগই আগের মাসের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ভালো মানের খেজুরে কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ক্রেতা। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দামও নির্ধারিত মূল্যের কাছাকাছি বা কোথাও কোথাও বেশি আবারও অনেক দোকানে সয়াবিন তেলের সংকট। খোলা তেলের দাম তুলনামূলক কম হলেও মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এছাড়া রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে যে পেঁয়াজ গেল সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি সেটি এবার বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, রসুন গেল সপ্তাহে ছিল ১৫০ টাকা বুধবার থেকে এটি ২৩০ টাকা। রমজানে মূল উপকরণ ছানার ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি যা আগে ছিল ৮০ টাকা, মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা কেজিতে যা গত সপ্তাহে ছিল ৭৮ টাকা। তাছাড়া গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ কেজিতে তবে স্থান বেদে কোথাও কোথাও ১০-১৫ টাকা বেশি নিচ্ছেন বেশিরা। তাছাড়া বাহির থেকে আমদানি করা খেজুরের দামে আগুন লেগেছে ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে। আরবের দিহাদি ব্রান্ডের খেজুর গতকাল ২৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা হলেও আজ সেটি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ থেকে ২৯০ টাকায়, একটু উন্নত জাতের ফরিদা ব্রান্ডের খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ টাকা কেজিতে, যা গতকাল পর্যন্ত ছিল ৪৪০ টাকা কেজি। তবে ব্রয়লার মুরগির ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা কেজিতে এবং মুরগি ও হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৫ ও ৪৫ টাকা হালিতে।
অন্যদিকে, সবজির বাজারেও আগুন লেগেছে দামে। বেগুন, শশা, গাজর, কাঁচামরিচ, টমেটো সব ধরণের সবজিতে দাম বেড়েছে ১০-১৫ টাকা।
নগরের আম্বরখানা বড়বাজার এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রউফ বলেন, গত বছর যে বাজার করতাম তিন হাজার টাকায়, এখন একই জিনিসে চার হাজারের কাছাকাছি লাগছে। রোজায় খরচ একটু বাড়বেই, কিন্তু এবার বাড়তি চাপটা বেশি। বেতন বা আয় সেই হারে বাড়েনি ফলে সঞ্চয় ভেঙেই বাড়তি খরচ সামলাতে হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য ভিন্ন। আম্বরখানা এলাকার এক খুচরা বিক্রেতা ফেরদৌস ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় তাঁদের কিছু করার নেই। পরিবহন খরচ, গুদামজাত ব্যয় এবং ডলারের প্রভাব সব মিলিয়েই দাম বেড়েছে। আমরা খুব বেশি লাভ করছি না, প্রতিযোগিতা বেশি। কিন্তু পাইকারি যে দামে কিনছি, তার কমে বিক্রি করলে টিকতে পারব না।
নগরীর সুরমা বাজার নামে পাইকারী দোকান ব্যাবসায়ী পাপ্পু আহমেদ বলেন, বাজারে এখন থেকেই সংকট সৃষ্টি করতে চাচ্ছে একটি মহল। যার কারণে পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে এবং তেলের সংকটও তৈরি করা হয়েছে। আমরা কোম্পানিকে বলেছি তেল দিতে তারা জানিয়েছে তেল নাই। সরকারকে অনুরোধ এই সিন্ডিকেটটা ভেঙে দিতে আমাদের উপকার হবে।
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকির কথা বলা হলেও ক্রেতারা বলছেন, বাস্তবে তার প্রভাব খুব একটা চোখে পড়ছে না।
বন্দরবাজার এলাকায় বাজার করতে আসা নাছিমা বেগম বলেন, বাজার মনিটরিংয়ের অভাব থাকায় অনেক দোকানি পণ্যের দাম বাড়িয়ে তুলছেন। যার কারণে আমরা বিপদে পড়তে হচ্ছে বেশি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন বলেন, রমজানকে সামনে রেখে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও মূল্যতালিকা টাঙানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাছাড়া বাজার নিয়ন্ত্রনে ৫টি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে।
সিলেট, রমজান, নিত্যপন্য, বাজারদর