কানাইঘাটে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫ ১২:৪১ অপরাহ্ন
বানিয়াচঙ্গের ইতিহাসে অনন্য এক নাম বৃক্ষপ্রেমিক, জনদরদি ও স্বাধীনতা সংগ্রামের সংগঠক আলহাজ্ব আব্দুছ ছত্তার (হাজী সাহেব)। আজ বৃহস্পতিবার তাঁর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী। দিনটি উপলক্ষে হবিগঞ্জ শহরের বাসভবন ও গ্রামের বাড়ি বানিয়াচঙ্গে কবর জিয়ারত, দোয়া মাহফিল এবং বনমথুরা মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও হাফেজদের মাঝে পোশাক বিতরণের আয়োজন করা হয়েছে।
হাজী আব্দুছ ছত্তার ছিলেন একাত্তরের দক্ষিণ বানিয়াচঙ্গ সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধের একজন নিরলস সংগঠক। যুদ্ধকালীন সুনামগঞ্জের ব্যালাট ও টাকেরঘাট সাব-সেক্টরে দায়িত্ব পালন করে তিনি রেখেছেন অসাধারণ ভূমিকা। তাঁর স্পষ্টবাদী নেতৃত্ব ও দেশপ্রেমিক মনোভাব স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণকে দৃঢ়ভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান সমানভাবে উল্লেখযোগ্য। পঞ্চাশের দশকে নিজ বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন যাত্রাপাশা প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্বাধীনতার পর বানিয়াচং গার্লস হাই স্কুল ও পরে ডা. ইলিয়াস একাডেমি প্রতিষ্ঠায় রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। জনাব আলী কলেজ প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান আজও কিংবদন্তির মতো স্মরণ করা হয়। দীর্ঘদিন তিনি বানিয়াচং এল.আর. হাই স্কুলের গভর্নিং বডিতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।
তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক ছিল বৃক্ষপ্রেম। বানিয়াচঙ্গে বৃক্ষরোপণে তিনি এক ধরনের বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জনপদ আজও তাঁর লাগানো অসংখ্য গাছের সাক্ষী। ছেলে বা মেয়ে সন্তানের জন্মে দুইটি কড়ইগাছ রোপণের আহ্বান তিনি ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতেন—অনেক সময় নিজেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে গাছ লাগিয়ে দিতেন। জনপ্রতিনিধি থাকাকালে ট্যাক্স প্রদানে উৎসাহ দিতে মানুষের বাড়িতে কলাগাছ রোপণের অনন্য উদ্যোগও ছিল তাঁর।
উল্লেখ্য, সাবেক ব্যাংকার আব্দুল মালেক এজাজ ও মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিনের পিতা মরহুম হাজী আব্দুছ ছত্তার ১৯৯৫ সালে হবিগঞ্জ শহরের উত্তরা কমপ্লেক্সে নিজ বাসভবনে সকাল ৭টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
সিলেট, হবিগঞ্জ, বানিয়াচং