
সিলেট নগরীর প্রধান প্রধান সড়কগুলো আজ অস্বাভাবিকভাবে ফাঁকা। যেখানে প্রতিদিন সকাল থেকেই শত শত হকার পসরা সাজিয়ে বসতেন, সেখানে আজ নেই তাদের দেখা। হকার উচ্ছেদে সিলেটের ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) আল্টিমেটাম কার্যকর হওয়ার পর এই দৃশ্য দেখা গেছে।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার ও চৌহাট্টাসহ প্রধান প্রধান সড়কগুলোর দু‘পাশ রোববার সকাল থেকে ফাঁকা রয়েছে।
তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো-হকারদের জন্য নির্ধারিত লালদিঘীরপাড় এলাকাও রোববার বিকেল পর্যন্ত প্রায় ফাঁকা ছিল। হাতেগোনা কয়েকজন হকারকে ব্যবসা করতে দেখা গেছে। তাদের জন্য বানানো শেড প্রায় ফাঁকা ছিল।
অনেকে বলছেন, হকাররাও পরিস্থিতি পর্যক্ষেন করছেন। কারণ এর আগেও কয়েকবার হকারদের সেখানে পাঠানো হয়েছে। সর্বকশেষ সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী লালদিঘীরপাড় এলাকায় এক হাজার হকারকে পুনর্বাসন করেছিলেন। কিন্তু তিনি দায়িত্বে থাকাবস্থায়ই হকাররা ফের রাস্তায় চলে আসে। এরপর গত বছরের ৫ আগস্ট তিনি আনোয়ারুজ্জামান পলাতক হওয়ার পর পুরো প্রক্রিয়াই ভেস্তে গেছে।
রোববার বিকেলে নগরীর চৌহাট্টা, জিন্দাজার ও বন্দরবাজার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পুরো রাস্তা জুড়ে অবাধ চলাচল করছে পথচারী ও যানবাহন। কোথাও একজন হকারকেও দেখা যায়নি। বিভিন্ন স্থানে পুলিশের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও।
চৌহাট্টা এলাকায় পথচারী আরিফ বলেন, ‘প্রতিদিন এখানকার ভিড় ছিল খুবই বিরক্তিকর। কিন্তু এই এলাকাকে অদ্ভুত ফাঁকা লাগছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে সিলেট শহর সত্যিই শান্তির শহরে পরিণত হবে।
জিন্দাবাজার এলাকার ব্যবসায়ী আফজল হোসেন বলেন, হকারদের কারণে প্রতিদিন বিকেলে জিন্দাবাজার এলাকা যেন দুর্ভোগের নগরীতে রূপ নিতো। আজ যানজট ছিল না বললেই চলে।
এদিকে, লালদিঘীরপাড়ে গিয়ে দেখা গেছে, হকারদের জন্য নির্ধারিত স্থানে এখনো কেউ পসরা সাজাননি। এলাকার একাধিক হকার নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
হকার নেতা শাহজাহান মিয়া বলেন, যেখানে হকারদের পুনর্বাসন করা হয়েছে, সেখানে কোনো ক্রেতা যায় না। এর আগে আরও তিনবার এখানে হকারদের আনা হয়েছে। কিন্তু কার্যকর হয়নি। এখানে ক্রেতা আসার রাস্তা নেই। গাড়ি পার্কিং করার জায়গা নেই। এজন্য মানুষজন আসে না।
তিনি বলেন, ডিসি বার বার বলছেন হকারদের পুনর্বাসন করেছেন। কিন্তু এখানে শত শত হকার। কারা এখানে বসবে, কীভাবে দোকান কোটা বরাদ্দ হবে তার কোনো নির্দেশনা নেই। এজন্য আজ কোনো হকার এখানেও আসেননি।
ফল বিক্রেতা লুতফুর বলেন, আমাদের দেশ গরীব। হকার থাকবেই। অনেক ক্রেতাও আছে যারা হকার ছাড়া কোনো কিছু কিনবে না।
এদিকে, রোববার সন্ধ্যায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষন করতে পরিদর্শনে যান সিলেটের ডেপুটি কমিশনার মো. সারওয়ার আলম ও সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল কুদ্দুছ। পরিদর্শনকালে সিএনজি ও লেগুনা চালকদের সড়ক দখল করে যাত্রী উঠানো ও নামাতে সর্তক করেছেন সিলেটের ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলম।
ডিসি মো. সারওয়ার আলম বলেন, নগরীর যানযট মুক্ত করতেই আমরা মূলত হকারদের উচ্ছেদ করেছি। এখন রাস্তাঘাট দেখতে সুন্দর লাগতেছে। তবে এই হকার উচ্ছেদের সুবিধা নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও লেগুনা চালকরা যদি সড়ক দখল করে আবারও নাগরিক দুর্ভোগ সৃষ্টি করেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করবো। তাদের জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড রয়েছে সেখানেই তারা যাত্রী তুলবেন এবং নামাবেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার।
এর আগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোববার নগরীর সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অংশ নেন। তবে কোনো হকার ফুটপাতে বসার জন্য আসেনি।
এর আগে গতকাল শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রোববার সকাল থেকে নগরীর কোনো সড়ক বা ফুটপাতে একজন হকারকেও বসতে দেওয়া হবে না। এ নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেয়ার করুনঃ
দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন
সিলেট, হকার উচ্ছেদ-পুনর্বাসন


