দিরাইয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক যুবকের মৃত্যু
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ২৪ এপ্রিল, ২০২৫ ৩:২৫ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের কৃষকরা ভেজাল বীজ কিনে চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন প্রায় এক ডজন কৃষক।
ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, বিএডিসি (বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন) নাম ব্যবহার করে ভেজাল বীজ বিক্রি করেছেন রানীগঞ্জ বাজারের ‘ফারুক ব্রিজ ঘর’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ফারুক মিয়া। তিনি বিএডিসির অনুমোদিত লাইসেন্সধারী হলেও চোরাই বীজ বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
কৃষকদের দাবি, প্যাকেটের গায়ে ‘লাল নালিয়া শাক’ লেখা থাকলেও রোপণের পর সেখানে ফলেছে পাট শাক। অথচ প্রতি কেজি ৬০০ টাকা দরে তারা এই বীজ কিনেছেন। প্রতারণার শিকার হয়ে ১০ থেকে ১২ জন কৃষক প্রায় ১৪ থেকে ১৬ কিয়ার জমিতে চাষ করেও কোনো ফলন ঘরে তুলতে পারেননি। এতে তাদের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে রয়েছেন—রমিজ আলী, জমির আলী, মুতালিব আলী, শাফায়েত আলী, শামিম আহমেদ, সিরাজ মিয়া প্রমুখ। তারা অভিযোগ করেছেন, বিএডিসির নাম ভাঙিয়ে ফারুক মিয়া দীর্ঘদিন ধরে কৃষকদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন।
কৃষক রমিজ আলী বলেন, “ফারুক মিয়া আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বেগুন ভাজা দেখিয়ে ঢেঁড়শ ভাজা খাইয়েছে।”
মুতালিব আলী বলেন, “আমি তিন কিয়ার জমিতে শাক চাষ করি। পরে দেখি পাট শাক হয়েছে। অথচ দাম দিয়েছি লাল শাকের।”
শামিম মিয়া বলেন, “আমরা জানতাম না ফারুক মিয়া এত বড় প্রতারক। তার লাইসেন্স বাতিল করা হোক।”
সিরাজ মিয়া বলেন, “তার দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ ও তারিখবিহীন বীজ বিক্রি হয়।”
শাফায়েত আহমেদ বলেন, “আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি, ক্ষতিপূরণ চাই এবং ফারুক মিয়ার লাইসেন্স বাতিলের দাবি জানাই।”
বিষয়টি তদন্তে উপজেলা কৃষি অফিস মাঠকর্মী রুবেল মিয়াকে ঘটনাস্থলে পাঠায়। তিনি বলেন, “আমি দোকানে গিয়ে কোনো বিএডিসি অনুমোদিত মেমো দেখতে পাইনি। তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেব।”
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, “আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে মাঠকর্মীকে তদন্ত করতে পাঠিয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভেজাল বীজ, কৃষক প্রতারণা, জগন্নাথপুর