২১ জুন ২০২৬

দৈনন্দিন / দিবস

আজ ‘বিশ্ব বাবা দিবস’

সিলেট ভয়েস ডেস্ক

প্রকাশঃ ২১ জুন, ২০২৬ ১২:৫৯ অপরাহ্ন


আজ বিশ্বের বহু দেশে জুন মাসের তৃতীয় রোববার পালিত হচ্ছে ‘ফাদার’স ডে’ বা বাবা দিবস। বাবাদের প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এই বিশেষ দিনটির পেছনে রয়েছে এক আবেগঘন ইতিহাস।বাবা দিবস পালনের ধারণাটি প্রথম আসে যুক্তরাষ্ট্রে। বাবা দিবসের সূচনা হয়েছিল এক নারীর হাত ধরে, যিনি বড় হয়েছেন একজন সিঙ্গেল বাবার স্নেহ ও আশ্রয়ে। তার নাম সোনোরা স্মার্ট ডড। সোনোরার মা সন্তান জন্ম দেওয়ার সময় মারা গেলে, তার বাবা উইলিয়াম স্মার্ট একাই ছয় সন্তানকে বড় করে তোলেন।

১৯০৯ সালে সোনোরা সেন্ট্রাল মেথোডিস্ট চার্চে বাবার সঙ্গে মা দিবস উপলক্ষে একটি ধর্মোপদেশ শুনছিলেন। সেখানেই তার মনে প্রশ্ন জাগে— এমন একটি বিশেষ দিন কেন তার অসাধারণ বাবার জন্য নেই? গৃহযুদ্ধ থেকে ফিরে আসা এই মানুষটি একা হাতে ছয় সন্তানকে লালন-পালন করেছেন, অথচ তাকে সম্মান জানানোর জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন নেই। সোনোরার এই ভাবনা দ্রুত সমর্থন পায় ওয়াশিংটনের স্পোকেন শহরের ওয়াইএমসিএ এবং মিনিস্ট্রিয়াল অ্যালায়েন্সের। তাদের উদ্যোগে ১৯১০ সালে প্রথমবারের মতো বাবা দিবস উদযাপিত হয়। সোনোরা চেয়েছিলেন দিনটি পালিত হোক ৫ জুন, তার বাবার জন্মদিনে। কিন্তু প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে প্রথম বাবা দিবস উদযাপিত হয় ১৯১০ সালের ১৯ জুন, রোববার।

এরপর ধীরে ধীরে ধারণাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯২১ সালে ভার্জিনিয়ায় এবং ১৯৩৬ সালে নিউইয়র্ক সিটিতে গঠিত হয় দুটি জাতীয় বাবা দিবস কমিটি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন ১৯১৩ সালেই বাবা দিবসের ধারণাকে সমর্থন জানান এবং ১৯১৬ সালে স্পোকেনে এসে উৎসবে অংশ নেন। পরে প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজও ১৯২৪ সালে এই উদ্যোগের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

১৯৫৭ সালে মেইনের মার্কিন সিনেটর মার্গারেট চেজ স্মিথ বাবা দিবসকে সরকারি স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে একটি বিল উত্থাপন করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা হয় পিতামাতা উভয়কেই সম্মান জানাব, নয়তো কাউকেই নয়। একজনকে আলাদা করে সম্মান জানিয়ে আরেকজনকে উপেক্ষা করা অবমাননাকর।’ উল্লেখ্য, তখন পর্যন্ত মা দিবস ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিন্ডন জনসন একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে বাবা দিবস হিসেবে ঘোষণা করেন। আর ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন দিনটিকে স্থায়ী জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেন।

সোনোরা স্মার্ট ডডকে আজ বাবা দিবসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৪৮ সালে স্পোকেনের ওয়াইএমসিএ ভবনে তার সম্মানে একটি ব্রোঞ্জফলক স্থাপন করা হয়। পরে ২০১০ সালে তাঁর পারিবারিক বাড়িটি জাতীয় ঐতিহাসিক নিদর্শনের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। যদিও এটি বর্তমানে একটি ব্যক্তিগত আবাসন, তবুও এটি স্পোকেনের ‘ইস্ট সেন্ট্রাল হেরিটেজ’ ভ্রমণের অংশ হিসেবে দর্শনার্থীদের কাছে পরিচিত।


শেয়ার করুনঃ

দৈনন্দিন থেকে আরো পড়ুন

দিবস, বাবা দিবস

আরো পড়ুনঃ

আরো পড়ুনঃ