সিলেটে সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ১৭ জুন, ২০২৬ ৪:২৬ অপরাহ্ন
মাত্র ২৬ দিনের মাথায় আলোচিত এক শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করলেন চট্টগ্রামের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে অভিযুক্ত মনির হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল (মহানগর) চট্টগ্রামের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা এ রায় ঘোষণা করেন। বিচার শুরু হওয়ার মাত্র আট কার্যদিবসের মধ্যে এবং মামলা দায়েরের ২৬ দিনের মাথায় রায় হওয়ায় এটি দেশের সাম্প্রতিক দ্রুত বিচার হওয়া আলোচিত মামলাগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বেলা ২টা ২০ মিনিটে রায় পড়া শুরু করেন বিচারক। প্রায় ৪০ মিনিট ধরে রায়ের বিভিন্ন অংশ পাঠ শেষে বেলা ৩টায় রায় ঘোষণা শেষ হয়। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, শিশু ধর্ষণ শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি মানবতা ও সমাজের নৈতিক ভিত্তির বিরুদ্ধে জঘন্য আঘাত। এ ধরনের অপরাধ একটি শিশুর শারীরিক ক্ষতির পাশাপাশি তার মানসিক বিকাশ, আত্মবিশ্বাস ও স্বাভাবিক জীবনযাপনকে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতিগ্রস্ত করে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাহমুদুল আলম চৌধুরী বলেন, অভিযোগ গঠনের পর মাত্র আট কার্যদিবসে বিচার শেষ হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় আদালত স্বল্প সময়ের মধ্যেই রায় দিতে সক্ষম হয়েছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকার চেয়ারম্যানঘাটা থেকে মনির হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে। অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে শত শত মানুষ পুলিশের গাড়ি ঘিরে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। পরে রাতের অন্ধকারে কৌশলে অভিযুক্তকে নিরাপদে সরিয়ে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরদিন ২২ মে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে বাকলিয়া থানায় মামলা করেন। তদন্ত দ্রুত শেষ করে ৪ জুন অভিযোগপত্র জমা দেয় পুলিশ। ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয় এবং আট কার্যদিবসের মধ্যেই মামলার নিষ্পত্তি হয়।
রায় ঘোষণার পর শিশুটির মা সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের রায়ে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তবে আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে আরও সন্তুষ্ট হতেন।
এদিকে দেশে শিশু নির্যাতন ও হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির আলোচনায় সম্প্রতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিল রাজধানীর পল্লবীর শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলা। ওই মামলায় ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা করা হয়েছিল। তদন্ত শেষ হয় মাত্র চার দিনে এবং বিচারকাজ শেষ হয় চার কার্যদিবসে। পরে প্রধান আসামি ও তার সহযোগীকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া মামলায় রায় এসেছে ২৬ দিনের মাথায়। যদিও সময়ের হিসাবে এটি রামিসা মামলার চেয়ে কিছুটা বেশি, তবু প্রচলিত বিচারব্যবস্থার তুলনায় এটি অত্যন্ত দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া একটি মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শিশু ধর্ষণ, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, দ্রুত বিচার, ফৌজদারি অপরাধ, আদালত, চট্টগ্রাম