চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এনসিপির ওপর হামলার অভিযোগ ডা. মিতুর
দৈনন্দিন
প্রকাশঃ ১৬ নভেম্বর, ২০২৫ ৮:৪৯ অপরাহ্ন
হবিগঞ্জ–আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ–শিবপাশা ও হবিগঞ্জ–বানিয়াচং রুটে সিএনজি চলাচল নিয়ে দুই মালিক সমিতির দ্বন্দ্ব নিত্যদিনই তীব্র আকার ধারণ করছে। সিরিয়াল ফি–সংক্রান্ত বিরোধ থেকে শুরু হওয়া উত্তেজনা এখন রূপ নিয়েছে ভয়াবহ অস্থিরতায়। অতিরিক্ত ফি আদায়, হামলা–ভাঙচুর এবং সিএনজি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো এলাকার পরিবহন ব্যবস্থা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। স্কুল, কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, অসুস্থ রোগী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ যেন সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
বানিয়াচং সিএনজি মালিক সমিতি (রেজি: ১০৭৪)-এর সাধারণ সম্পাদক এস. আর. সবুজ বানিয়াচং থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, হবিগঞ্জ সিএনজি মালিক সমিতির (খোয়াই নদীর উত্তর পাড় স্ট্যান্ড) সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব খান ও তাজিম মিয়াসহ কয়েকজন দীর্ঘদিন ধরে নির্ধারিত ১০ টাকার পরিবর্তে জোরপূর্বক ২০ টাকা করে সিরিয়াল ফি আদায় করছেন।
তিনি বলেন, উন্মুক্ত রুটের নিয়ম সবাইকে মানার কথা থাকলেও তারা জোর করে অতিরিক্ত টাকা নিচ্ছেন। টাকা না দিলে সিরিয়াল বন্ধ করে দেওয়া হয়, চলাচলেও বাধা দেওয়া হয়। যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
অভিযোগের দুই দিনের মধ্যেই দুই পক্ষের পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা চরমে ওঠে।
সমিতি সূত্রে জানা যায়, বানিয়াচং গ্যানিংগঞ্জ বাজার সিএনজি মালিক সমিতির কয়েকজন শ্রমিক সকাল সাতটায় বানিয়াচং যাওয়ার জন্য হবিগঞ্জ খোয়াই নদীর উত্তরপাড় স্ট্যান্ডে সিরিয়াল লিখাতে গেলে স্ট্যান্ডম্যানেজার অস্বীকৃতি জানান। এ নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে বানিয়াচংয়ের কয়েকজন শ্রমিকদের মারধর করা হয়। এ সময় ফুল মিয়া নামের এক শ্রমিকের সিএনজি অটোরিকশাও ভাংচুর করা হয়। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সকাল আটটার দিকে বানিয়াচংয়ের শরীফ উদ্দিন সড়কে খোয়াই নদীর উত্তরপাড় স্ট্যান্ডের দুই শ্রমিককে ধরে মারধর করেন গ্যানিংগঞ্জ বাজার সমিতির সদস্যরা। এর পর থেকে হবিগঞ্জ- গ্যানিংগঞ্জ বাজার, শিবপাশা ও আজমিরীগঞ্জসহ পাঁচটি রুটে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আহত চালক মোজাক্কির মিয়ার চোখে–মুখে আতঙ্ক আমরা বৈধ ফি দিতেই রাজি। কিন্তু অতিরিক্ত ফি না দেওয়ায় এভাবে মারধর করা হলো, গাড়ি ভেঙে দিল, দু’জনকে গুরুতর আহত করেছে। এখন তো রাস্তায় নামতেই ভয় লাগে।
হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বানিয়াচং থেকে সব সিএনজি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে স্কুল–কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কর্মজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী ও জরুরি চিকিৎসায় থাকা রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সিএনজি না পেয়ে অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ টমটম ও মিশুকে চড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
যাত্রী শারমিন আক্তারের ক্ষোভ সিএনজি না থাকায় টমটমে উঠতে হচ্ছে। কখন কী বিপদ ঘটে কে জানে! কিন্তু যেতেই হবে—কি আর করার!
যাত্রী রাকিবুল হাসান বলেন, সমিতির বিরোধের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
কলেজ পড়োয়া শিক্ষার্থী নাম না বলা শর্তে জানান, প্রতিদিন কলেজে যেতে বানিয়াচংয়ের একমাত্র যানবাহন সিএনজি দুই সমিতির দ্বন্দ্ব নিয়ে চলাচল বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছি। বাধ্য হয়ে জীবন ঝুঁকি নিয়ে টমটম-মিশুক দিয়ে অতিরিক্ত ভাড়ায় যেতে হচ্ছে। দ্রুত সমাধানের জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়ার পরও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় গতকাল ভাঙচুর ও চালক আহতের ঘটনা ঘটে। দুই পক্ষের উত্তেজনা, চালকদের নিরাপত্তাহীনতা এবং যাত্রীদের নিত্যদুর্ভোগ নিয়ে হবিগঞ্জ–বানিয়াচং রুটজুড়ে এখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন যে কোনো মুহূর্তেই বড় ধরনের অঘটন ঘটতে পারে।
বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা বেগম সাথী বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। দুই পক্ষের সঙ্গেই কথা হয়েছে। অতিরিক্ত ফি আদায় বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হামলা–ভাঙচুরে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হবিগঞ্জ, বানিয়াচং, অটোরিকশা, মালিক সমিতি