তাহিরপুরে মাদকসহ যুবক আটক, মোটরসাইকেল জব্দ
অপরাধ-বিচার
প্রকাশঃ ৫ জুলাই, ২০২৫ ৯:৫৩ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে জনবল নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্য ও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে। শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ২ টায় এ নিয়ে সুনামগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিগত ৫-৬ বছর ধরে তাঁরা হাসপাতালের বিভিন্ন আউটসোর্সিং পদে চাকরি করে আসছিলেন। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে তাদের নিয়োগ দেওয়া হলেও হাসপাতালের বর্তমান পরিচালক মাহবুবুর রহমান স্বপন পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর মেয়াদ শেষ হলে স্টাফদের কাছ থেকে মেয়াদ বাড়ানোর জন্য ঘুষ দাবি করেন।
তাঁরা জানান, ঘুষের এই দাবির বিরুদ্ধে তাঁরা একসময় আন্দোলনে নামলে প্রশাসনের সহায়তায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পুলিশ দিয়ে আন্দোলনকারীদের উপর হামলা চালায়। এতে অনেকে আহত হন এবং চাকরি হারানোর ভয়েও পড়েন অনেকে। পরবর্তীতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বৈষম্যেরবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এর আহ্বায়কসহ বিভিন্ন মহলের মধ্যস্থতায় বসে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সেসময় তিনি জানান,যখন নতুন নিয়োগ হবে, তখন পুরনো কর্মীদেরকেই বিনা ঘুষে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চাকরি দেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী আবির বলেন, 'আমি টাকা দেওয়ার পরেও চাকরি পাইনি। এখন টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দিচ্ছে।'
চাকরিপ্রার্থী তৌহিদ জানান, তাঁরা বছরের পর বছর ধরে এখানে কাজ করছেন। এখন নতুন করে নিয়োগে তাদেরকেই টাকা দিতে বলা হচ্ছে। তিনি ধার-দেনা করে ৮০ হাজার টাকা দিয়েছেন কিন্তু তাঁর চাকরি হয়নি। এখন টাকাও ফেরত দেওয়া হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
সোহেল বলেন, 'আমি ৭০ হাজার টাকা দিয়েছি। বলা হয়েছিল চাকরি হবে। এখন বলছে তালিকায় নাম নেই। টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো মামলার ভয় দেখাচ্ছে।'
শামসুন্নাহার বলেন, 'নারী হিসেবে আমরা আরও বেশি বিপদে আছি। চাকরির জন্য ধারদেনা করেছি। এখন পরিবারে যেতে পারছি না, সমাজেও মুখ দেখাতে পারছি না।'
ফাতেমা বলেন, 'হাসপাতালের মতো মানবসেবার জায়গায় যদি এমন ঘুষ চলে, তাহলে সাধারণ মানুষের কী হবে?'
ইমরান, সুরাইয়া, শুকলা, রাজীবসহ অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও একই অভিযোগ তুলে ধরে অবিলম্বে নিয়োগ প্রক্রিয়া বাতিল, ঘুষ লেনদেনের সুষ্ঠু তদন্ত, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং যারা টাকা দিয়েও চাকরি পাননি, তাদের পুনর্বহালের দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা আরও বলেন, 'একদিকে আমরা বছরের পর বছর কাজ করেও আজ বঞ্চিত, অন্যদিকে নতুনদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এটি চরম অবিচার ও দুর্নীতি।'
ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করে আসা কর্মীদের পুনর্বহালের দাবি জানান।
তাদের এই বক্তব্যে উপস্থিত ছিলেন জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকবৃন্দ।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের পরিচালক ডা. মাহবুবুর স্বপন বলেন, ‘আউটসোর্সিং নীতিমালা অনুযায়ী আমরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে টেন্ডার দিয়ে কাজ দেওয়া হয়। সরাসরি কোনো কর্মী নিয়োগ দেওয়া না। ঠিকাদারি কীভাবে তাদের লোকবল নেবে, তা সম্পূর্ণ তাদের বিষয়। তবে যদি কেউ সঠিকভাবে কাজ না করে, তবে আমরা তাদেরকে বিষয়টি অবগত করি।’
তিনি বলেন, ‘যারা আমার নামে অভিযোগ তুলছে, তারা আসলে আমার বিরুদ্ধে প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। এসব ভিত্তিহীন।’
সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল, ঘুষ বাণিজ্য অভিযোগ, আউটসোর্সিং নিয়োগ দুর্নীতি, হাসপাতাল চাকরি অনিয়ম, সুনামগঞ্জ ঘুষ কেলেঙ্কারি